একই জমিতে একের পর এক সবজি চাষ করে সচ্ছলতার মুখ দেখছেন দেশের প্রান্তিক কৃষকরা। পরিকল্পিতভাবে সারা বছর সবজি উৎপাদন করে সরাসরি পাইকারি বাজারে বিক্রি করছেন তারা। এতে মধ্যস্বত্বভোগী ও দালালের হস্তক্ষেপ কমায় উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন কৃষকরা। পাশাপাশি ধারাবাহিক চাষাবাদের কারণে কমেছে লোকসানের ঝুঁকিও।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, তারা জমিতে উৎপাদিত তাজা সবজি সরাসরি বারৈচা ও মরজাল পাইকারি বাজারে নিয়ে যান। রাজধানী ঢাকা, সিলেট ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে আসা পাইকাররা এসব বাজার থেকে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে সবজি কিনে নেন। ফলে গ্রাম পর্যায়ে দালালের দৌরাত্ম্য না থাকায় ফসল বিক্রির অর্থ সরাসরি কৃষকের হাতে পৌঁছাচ্ছে।
কৃষকদের ভাষ্য, মৌসুমের শুরুতে একটি লাউ সর্বোচ্চ ৬০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে বাজারে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় প্রতিটি লাউ ২০ থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দাম কমলেও উৎপাদন ও বিক্রির পরিমাণ বেশি হওয়ায় সবজি চাষে সামগ্রিকভাবে ভালো লাভ হচ্ছে।
কৃষকরা জানান, একশটি লাউ বিক্রি করে প্রায় ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব। শুধু লাউ নয়, বছরের ১২ মাসই জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করা হচ্ছে। তিন মাস মেয়াদি লাউয়ের ফলন শেষ হওয়ার পর একই জমিতে শিম, জালি, ধুন্দুল কিংবা মুলা চাষ শুরু করেন তারা।
এভাবে এক ফসলের পর আরেক ফসল উৎপাদন করায় জমি দীর্ঘ সময় পতিত পড়ে থাকে না। একই সঙ্গে কৃষকের হাতেও প্রায় সারা বছরই কোনো না কোনো ফসল বিক্রির সুযোগ থাকে। ফলে কৃষি থেকে নিয়মিত আয় নিশ্চিত হওয়ায় অনেক প্রান্তিক কৃষক আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন।
কৃষকরা আরও জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য হওয়ায় সবজির চাহিদা সারা বছরই থাকে। উন্নত জাতের বীজ নির্বাচন, সময়মতো পরিচর্যা এবং আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণ করে উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরাসরি বাজারজাতকরণ ও একই জমিতে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন ফসল চাষ কৃষকের আয় বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে প্রান্তিক কৃষকদের আর্থিক সচ্ছলতার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।