কৃষি

আন্দোলনের হুশিয়ারি

আলু সংরক্ষণে কেজিপ্রতি ৫ টাকা ভাড়া চান কৃষক-ব্যবসায়ীরা

‌নিজস্ব প্রতি‌বেদক
ছবি: সংগৃহীত

হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ভাড়া নিয়ে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। জেলা সুপারিশ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী বস্তাপ্রতি নিট ওজন থেকে ৫ কেজি বাদ দিয়ে প্রতি কেজি আলুর ভাড়া সর্বোচ্চ ৫ টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন রাজশাহীর কৃষক ও আলু ব্যবসায়ীরা। এই সুপারিশের বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত হলে আন্দোলনের পাশাপাশি আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ভাড়া নিয়ে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। জেলা সুপারিশ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী বস্তাপ্রতি নিট ওজন থেকে ৫ কেজি বাদ দিয়ে প্রতি কেজি আলুর ভাড়া সর্বোচ্চ ৫ টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন রাজশাহীর কৃষক ও আলু ব্যবসায়ীরা। এই সুপারিশের বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত হলে আন্দোলনের পাশাপাশি আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ভাড়া নিয়ে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। জেলা সুপারিশ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী বস্তাপ্রতি নিট ওজন থেকে ৫ কেজি বাদ দিয়ে প্রতি কেজি আলুর ভাড়া সর্বোচ্চ ৫ টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন রাজশাহীর কৃষক ও আলু ব্যবসায়ীরা। এই সুপারিশের বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত হলে আন্দোলনের পাশাপাশি আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে রাজশাহীর পবা উপজেলার তকিপুরে জেলা আলু ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। এতে লিখিত বক্তব্য দেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইফতেখারুল ইসলাম ডনি। এ সময় সমিতির সভাপতি আহাদ আলী শাহসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও কৃষকেরা উপস্থিত ছিলেন।

ইফতেখারুল ইসলাম ডনি বলেন, প্রায় দুই বছর ধরে হিমাগারে আলু সংরক্ষণের যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণের দাবি জানিয়ে আসছেন তারা। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে দেশের আলু উৎপাদনকারী জেলাগুলোতে যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণের লক্ষ্যে পৃথক সুপারিশ কমিটি গঠন করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন জেলার সুপারিশ কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে।

রাজশাহী জেলা সুপারিশ কমিটির ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, নানা প্রতিকূলতা ও হিমাগার মালিকদের অসহযোগিতার মধ্যেও কমিটি প্রায় নিরপেক্ষ একটি সুপারিশমালা দিয়েছে। সুপারিশের কিছু বিষয়ে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের ভিন্নমত থাকলেও তারা তা মেনে নিয়েছেন।

তিনি বলেন, রাজশাহী জেলা সুপারিশ কমিটির প্রতিবেদনের ৮ নম্বর কলামে বস্তাপ্রতি অতিরিক্ত ৫ কেজি আলু বাদ দিয়ে প্রতি কেজি আলুর ভাড়া ৫ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। দেশের অন্যান্য আলু উৎপাদনকারী জেলার প্রতিবেদনেও গড়ে প্রতি কেজি আলুর ভাড়া ৫ টাকা ২০ পয়সা উল্লেখ করা হয়েছে। এরপরও হিমাগার মালিকদের অনড় অবস্থানের কারণে যৌক্তিক ভাড়া চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি।

সংগঠনের অবস্থান তুলে ধরে ডনি বলেন, মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) নির্ধারিত বৈঠকে গ্রহণযোগ্য ও যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হলে জেলা সুপারিশ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ভাড়া দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। এতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে এর দায় হিমাগার মালিক পক্ষকে নিতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলের আলু উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও তুলে ধরা হয়। ডনির দাবি, দুই অঞ্চল মিলে দেশের মোট আলু উৎপাদনের প্রায় ৭০ শতাংশ উৎপাদন করে। অথচ হিমাগারে আলু সংরক্ষণের যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণে গঠিত জাতীয় কমিটিতে রাজশাহী ও রংপুরের কোনো প্রতিনিধি রাখা হয়নি।

তিনি অভিযোগ করেন, এ দুই অঞ্চলের প্রতিনিধি জাতীয় কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে সুপারিশ থাকলেও সর্বশেষ কমিটিতেও তাদের রাখা হয়নি। ফলে জাতীয় পর্যায়ে ভাড়া নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় রাজশাহী ও রংপুরের কৃষক-ব্যবসায়ীদের আনুষ্ঠানিক মতামত ও পরামর্শ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়নি।

কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে ইফতেখারুল ইসলাম ডনি বলেন, জেলা সুপারিশ কমিটির সুপারিশের বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত এলে রাজশাহীর কৃষক ও ব্যবসায়ীরা তা মেনে নেবেন না। প্রয়োজনে আন্দোলনের পাশাপাশি আইনগত লড়াইও চালিয়ে যাওয়া হবে। হিমাগার মালিকরা উচ্চ আদালতে গেলে কৃষকরাও ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য উচ্চ আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি নেবেন।