র্যাবের নেতৃত্বে সারাদেশে বিশেষ অভিযান শুরু হচ্ছে। গত ২৪-এর আন্দোলনের সময় পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছ থেকে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে এ অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন র্যাব মহাপরিচালক মো. আহসান হাবীব পলাশ।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) খুলনায় র্যাব-৬ সদর দপ্তরে সুন্দরবনের জলদস্যুদের আত্মসমর্পণ ও অস্ত্র উদ্ধার উপলক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।
র্যাব মহাপরিচালক বলেন, অভিযানের কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে। অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য দিয়ে সহযোগিতার জন্য গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তথ্যদাতাদের পরিচয় গোপন রাখা হবে এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
এদিকে, সুন্দরবনে পাঁচটি জলদস্যু বাহিনীর ৫৯ সদস্য আত্মসমর্পণ করেছে। তাদের কাছ থেকে চারটি শটগান, ৪৭টি ওয়ান শুটারগান, চারটি পাইপগান, একটি .২২ বোর রাইফেলসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র, ওয়াকিটকি ও ৫৪১ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
র্যাব জানায়, এ পর্যন্ত সুন্দরবনের ৩১৮ জন জলদস্যু আত্মসমর্পণ করেছে। তাদের মধ্যে প্রায় ৩০ জন ফের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছে। বর্তমানে সুন্দরবনে চার-পাঁচটি জলদস্যু বাহিনী সক্রিয় রয়েছে।
আত্মসমর্পণকারীদের পুনর্বাসনে আগের চেয়ে উন্নত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ চলছে বলে জানান র্যাব মহাপরিচালক। পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা প্রমাণ ছাড়া কাউকে আটক কিংবা মামলা না দেওয়ার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক করা হয়েছে।
সুন্দরবনের নিরাপত্তা জোরদারে সেখানে একটি র্যাব ব্যাটালিয়ন স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখতে জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে বলেও জানান র্যাব মহাপরিচালক।