নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একমাত্র সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা প্রায় তিন মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন রোগী ও স্বজনেরা। জরুরি প্রয়োজনে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স নিতে গিয়ে সরকারি ভাড়ার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি অর্থ গুনতে হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন দরিদ্র ও স্বল্প আয়ের রোগীর পরিবার।
রোগীর স্বজনদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার অধীনে থাকা সরকারি অ্যাম্বুলেন্সটি দীর্ঘদিন ধরে রোগী পরিবহন সেবা দিচ্ছে না। মূলত সরকারি নিয়োগপ্রাপ্ত চালক না থাকায় এ সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্র ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অ্যাম্বুলেন্সটির চালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন মনোয়ার হোসেন। বিভিন্ন সময় বেপরোয়া অ্যাম্বুলেন্স চালানোর অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন। এ কারণে অ্যাম্বুলেন্সটি কয়েকবার দুর্ঘটনার কবলেও পড়ে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে এলে তাকে মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে পাঠানো হয় এবং সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এরপর থেকেই বন্ধ হয়ে যায় হাসপাতালের একমাত্র সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা।
এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবার সীমাবদ্ধতা থাকায় জটিল রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রায়ই জেলা সদর কিংবা বিভাগীয় পর্যায়ের হাসপাতালে পাঠানো হয়। ধামইরহাট থেকে পার্শ্ববর্তী জয়পুরহাট জেলা সদর হাসপাতালের দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার। সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে এ দূরত্বের রোগী পরিবহনে ভাড়া নির্ধারিত রয়েছে ৭০০ টাকা। কিন্তু সরকারি অ্যাম্বুলেন্স বন্ধ থাকায় একই দূরত্বে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে প্রায় ২ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া দিতে হচ্ছে।
সামর্থ্যবান রোগীর স্বজনেরা অতিরিক্ত ভাড়া দিতে পারলেও দরিদ্র ও স্বল্প আয়ের পরিবারের জন্য এ ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। জরুরি মুহূর্তে অনেক পরিবারকে ধার-দেনা করে কিংবা বিভিন্নভাবে অর্থ সংগ্রহ করে রোগী স্থানান্তর করতে হচ্ছে।
বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক মিলন হোসেন বলেন, “গ্যাসসহ অন্যান্য খরচ বেশি হওয়ায় ভাড়া বেশি নিতে হয়। অনেক সময় দরিদ্র রোগীর স্বজনেরা পুরো ভাড়া দিতে পারেন না, তখন সেটিও আমাদের বিবেচনা করতে হয়। এর পাশাপাশি ব্যবসায়িক লাভের বিষয়ও রয়েছে।”
ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আরিফুল ইসলাম বলেন, “চালক না থাকায় সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা দিতে না পারাটা দুঃখজনক। সরকারি নিয়োগপ্রাপ্ত চালক না আসা পর্যন্ত খণ্ডকালীন চালক দিয়ে সেবা চালু করা যায় কি না, সে চেষ্টা চলছে। আশা করছি, দ্রুত এ সংকটের সমাধান হবে।”
নওগাঁর সিভিল সার্জন ডা. আমিনুল ইসলাম বলেন, ধামইরহাটসহ জেলার আরও কয়েকটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যাম্বুলেন্স চালকের পদ শূন্য রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সরকারি বিধি অনুযায়ী চালক নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। তবে কবে নাগাদ নিয়োগ দেওয়া হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা জানাতে পারেননি তিনি।
প্রায় দুই লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম ভরসা ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। হাসপাতালের একমাত্র সরকারি অ্যাম্বুলেন্স দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় রোগী ও স্বজনদের দুর্ভোগ বাড়ছে। দ্রুত চালক নিয়োগ দিয়ে অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল।