সিলেট নগরে গত ২৭ দিনে পাঁচটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে একই ঘটনায় তিনজনকে হত্যা করা হয়েছে। সর্বশেষ গত রোববার (২৩ আগস্ট) রাতে নগরের ইসলামাবাদ এলাকায় শাহাবুদ্দিন নামের এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
গত ২৭ জুলাই থেকে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত নগরে পৃথক পাঁচটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
এর আগে গত ২৭ জুলাই রাতে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে নগরের কাজিরবাজার সেতুর ওপর ছুরিকাঘাতে কিশোর রিফাত আহমদ নিহত হন।
এরপর গত ১২ আগস্ট নগরের রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার একটি বাসায় ব্যবসায়ী আবদুস সাত্তার, তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও গৃহপরিচারিকা তাহমিনাকে হত্যা করা হয়। আবদুস সাত্তার সিলেট চেম্বারের সাবেক পরিচালক ছিলেন।
সর্বশেষ ২৩ আগস্ট রাত ১১টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে ইসলামাবাদ এলাকায় ব্যবসায়ী শাহাবুদ্দিনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ফেলে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে স্বজন ও স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের স্বজনেরা জানান, রাতে দোকান থেকে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন শাহাবুদ্দিন। বাড়ির কাছে পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা তাঁকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায়। তাঁর ঘাড় ও গলায় একাধিক কোপের চিহ্ন ছিল।
নিহতের ভাতিজা আলামিন জুয়েল জানান, শাহাবুদ্দিনের সঙ্গে কারও বিরোধ ছিল না। তাঁর সঙ্গে থাকা আইফোন ও প্রায় ১০ হাজার টাকা অক্ষত ছিল। তাই ঘটনাটি ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে ঘটেছে বলে মনে করছেন না তাঁরা।
আইনশৃঙ্খলা নিয়ে মন্ত্রীর উদ্বেগ
গত শনিবার (২২ আগস্ট) সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে মতবিনিময় করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি সিলেট মহানগরের সংসদ সদস্যও।
সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, সিলেটে কোনো মাদকের আনাগোনা, অনলাইন জুয়া কিংবা কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা দেখতে চান না।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মো. মনজুরুল আলম বলেন, নগরের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত টহল, মোবাইল টিম পরিচালনা ও অপরাধীদের বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চলছে।
তিনি ব্যক্তিগত, পারিবারিক, ব্যবসায়িক বা জমিসংক্রান্ত বিরোধে নিজেরা সংঘাতে না জড়িয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
তিন খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার
রায়নগরে একই পরিবারের তিনজন হত্যার ঘটনায় বাবুল মিয়া নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, চুরির উদ্দেশ্যে ওই বাসায় ঢুকে প্রথমে গৃহপরিচারিকাকে দেখে ফেলায় তাঁকে হত্যা করা হয়। পরে দম্পতিকেও হত্যা করা হয় বলে জবানবন্দিতে উঠে এসেছে।
অন্যদিকে, কাজিরবাজার সেতুতে কিশোর রিফাত আহমদ হত্যার ঘটনায় ঘটনার ২৫ দিন পর গত ২১ আগস্ট জুয়েল আহমদ নামের এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। পরে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) সিলেটের সভাপতি সৈয়দা শিরীন আক্তার বলেন, অল্প সময়ের ব্যবধানে পাঁচটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জনমনে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি তৈরি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন।