রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) প্রথম বিজ্ঞান ভবনের সামনে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে ছায়া দেওয়া স্মৃতিবিজড়িত বিশাল কৃষ্ণচূড়া গাছটি ভেঙে পড়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে গাছটি হঠাৎ ভেঙে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে গাছটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে পরিচিত ছিল সৌন্দর্য ও স্মৃতির প্রতীক হিসেবে।
রোদ-বৃষ্টিতে শিক্ষার্থীদের বিশ্রামের জায়গা, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা কিংবা ছবি তোলার স্মৃতিতে গাছটির ছিল বিশেষ স্থান। কৃষ্ণচূড়ার মৌসুমে লাল ফুলে গাছটি আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠত। অসংখ্য শিক্ষার্থী গাছটির নিচে ছবি তুলে সেই মুহূর্তগুলো স্মৃতিতে ধরে রেখেছেন।
সময় গড়ানোর সঙ্গে গাছটির বয়স বেড়েছিল। কাণ্ড ও ডালপালায় বার্ধক্যের ছাপ থাকলেও ক্যাম্পাসের ব্যস্ততার মাঝে দীর্ঘদিন ধরে দাঁড়িয়ে ছিল এটি। নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা এসেছে, পুরোনোরা বিদায় নিয়েছে; কিন্তু গাছটি একই জায়গায় থেকে গেছে। ফলে গাছটির পতনকে অনেকেই ক্যাম্পাসের একটি স্মৃতির অধ্যায়ের সমাপ্তি হিসেবে দেখছেন।
গাছটি ভেঙে পড়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা সেখানে ভিড় করেন। অনেকেই মোবাইল ফোনে গাছটির শেষ দৃশ্য ধারণ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শিক্ষার্থীরা গাছটির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা পুরোনো স্মৃতি তুলে ধরেন।
প্রথম বিজ্ঞান ভবনের শিক্ষার্থী জুবায়ের রহমান বলেন, “আমরা যারা প্রথম বিজ্ঞান ভবনের শিক্ষার্থী, তাদের কষ্টটা বোধহয় একটু বেশি। কয়েকদিন আগেও এখানে প্রোগ্রাম করেছি। ডিপার্টমেন্টের যত ধরনের অনুষ্ঠান হোক, এখানে এসেই ছবি তুলি। প্রতিদিন বিল্ডিংয়ে ঢোকার আগে-পরে চোখে পড়ে। এত এত স্মৃতি কীভাবে ভুলি!”
সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম বলেন, “ক্যাম্পাসের একটা জীবন্ত প্রাণ ও ইতিহাসের একটা অংশ চিরতরে হারিয়ে গেল। থমকে যাওয়া এই ডালে ডালে আজও লেগে আছে অজস্র শিক্ষার্থীর স্মৃতির মায়া।”
শিক্ষার্থী মুবতাসির ফুয়াদ বলেন, “ক্যাম্পাসের সবচেয়ে প্রিয় শতবর্ষী কৃষ্ণচূড়া গাছটা ভেঙে পড়েছে। এই কৃষ্ণচূড়া গাছটা ঘিরে বর্ষা উৎসব করতে চেয়েছিলাম। এই রাস্তাটা দিয়ে আর হাঁটব কীভাবে! কীভাবে তাকাব এই অনুপস্থিতির দিকে!”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাবরিনা নাজ বলেন, “কৃষ্ণচূড়া গাছটি অত্যন্ত সুন্দর ছিল। গাছটির নিচে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অসংখ্য ছবি তুলেছে। গাছটির গড়নও খুব সুন্দর ছিল। দেখে কখনো মনে হয়নি এটি ভেঙে পড়ে যাবে। ক্যাম্পাসের অন্যান্য বয়স্ক কৃষ্ণচূড়া গাছের তুলনায় এর গঠনও আলাদা ছিল। আসলে এটি আমাদের দুর্ভাগ্য যে আমরা এমন একটি সুন্দর গাছ হারালাম।”
একটি গাছ পড়ে গেছে, কিন্তু তার সঙ্গে পড়ে যায়নি তার স্মৃতিগুলো। লাল কৃষ্ণচূড়ার ফুল, পুরোনো ছবি আর অসংখ্য শিক্ষার্থীর গল্পে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে ছায়া দেওয়া গাছটি হয়তো বেঁচে থাকবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতির পাতায়।