ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শাখা ছাত্রশিবিরের এক নেতাকে ছাত্রদলের এক সদস্যের থাপ্পড় দেওয়াকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘প্রশাসন সবসময় কঠোর ও সচেতন রয়েছে। তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার কারণে অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। ক্যাম্পাসকে নিরাপদ ও শিক্ষার পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখতে প্রশাসন সবসময় সচেতন রয়েছে।’
উপাচার্য বলেন, গতকালের ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তাদের ৭২ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর জড়িতদের বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, ক্যাম্পাস ও আবাসিক হলগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বৈধ পরিচয়পত্র বা হল কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া কেউ হলে অবস্থান করতে পারবেন না। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও প্রক্টরিয়াল বডি কাজ করছে।
যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত
জানা যায়, শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে শাখা ছাত্রশিবিরের নেতা কাজী জুহায়ের একটি হলের করিডোর দিয়ে যাওয়ার সময় একটি কক্ষ থেকে বের হয়ে ছাত্রদলের সদস্য আলিনূর রহমান তাকে থাপ্পড় দেন। এ ঘটনার পর শিবিরের নেতাকর্মীরা অভিযুক্ত ছাত্রদল সদস্যকে তার কক্ষ থেকে বের করে আনতে গেলে কক্ষটির জানালা ভাঙচুর করা হয়।
পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, ছাত্র-উপদেষ্টা ও হল প্রভোস্টের উপস্থিতিতে বিষয়টি সমাধানের জন্য উভয় পক্ষ আলোচনায় বসে। আলোচনার একপর্যায়ে অভিযুক্ত ছাত্রদল সদস্যকে সভাস্থলে আনতে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা গেলে সেখানে শিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ সময় ছাত্রদলের নেতারা সভাস্থল থেকে বের হয়ে যান। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।
পুলিশের উপস্থিতিতে অভিযুক্তকে পুনরায় উদ্ধারের চেষ্টা করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের গাড়ির কাচ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
প্রধান ফটকে অবস্থান
এরপর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক আটকে সেখানে অবস্থান নেন। পরে সেখানে রামদা, বাঁশের লাঠি ও ইট-পাটকেলসহ স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি দেখা যায়। একই সময়ে পাইপ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে জিয়া মোড়ে অবস্থান নেন শিবিরের নেতাকর্মীরা।
এদিকে, ছাত্রদলের অবস্থানস্থল প্রধান ফটকে স্থানীয় জামায়াতের কয়েকজন নেতাকর্মী উপস্থিত হলে তাদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। এতে জামায়াতের দুই কর্মী শহীদুল ও বাবলু আহত হন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন করা হয়। পরে রাতে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে পুনরায় আলোচনায় বসে প্রক্টরিয়াল বডি। এ সময় ঘটনার তদন্তে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পরে জিয়া হলে দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে সংঘটিত ঘটনার তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন।