শিক্ষা ও ক্যাম্পাস

রাবি সংঘর্ষ

রাবিতে দুই বিভাগের সংঘর্ষে আহত ৪, আইসিইউতে রসায়নের শিক্ষার্থী

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) টিএসসিসির একটি অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ ও রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে রসায়ন বিভাগের চার শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

নুর আলম নেহাল, রাবি প্রতিনিধি:
ছবি: রাজ টাইমস

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) টিএসসিসির একটি অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ ও রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে রসায়ন বিভাগের চার শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ফেরদৌস হাসানকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি শঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব আবদুল লতিফ হলের পেছনে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরে তা দুই বিভাগের একাডেমিক ভবন পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় উভয় বিভাগের শিক্ষার্থীরা একে অপরের ভবনে হামলা ও ভাঙচুর করেন।

আহতরা হলেন রসায়ন বিভাগের ফেরদৌস হাসান, সাজিদুর, নোমান ও সামিন। গুরুতর আহত ফেরদৌস হাসান ও সাজিদুরকে প্রথমে রাবি মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। পরে তাদের রামেক হাসপাতালে পাঠানো হলে ফেরদৌসকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, টিএসসিসিতে একটি অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে দুই বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রথমে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও বিরোধের সমাধান হয়নি। একপর্যায়ে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী নবাব আবদুল লতিফ হলের পেছনে রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মারধর করেন। এতে দুই শিক্ষার্থী আহত হন।

এর জেরে রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের একাডেমিক ভবন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাডেমিক ভবনে হামলা ও ভাঙচুর করেন। এ সময় ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা থেকে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে রসায়ন বিভাগের আরও দুই শিক্ষার্থী আহত হন। পরে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরাও রসায়ন বিভাগের একাডেমিক ভবন জাবির ইবনে হাইয়ান ভবনে হামলা ও ভাঙচুর করেন। এ সময় পুরো ক্যাম্পাস বিদ্যুৎবিহীন ছিল।

রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সামনে গেলে তাঁদের কয়েকজনকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে আহত করা হয়। পরে তাঁরা সেখান থেকে চলে গেলে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা রসায়ন বিভাগের সামনে এসে লাঠি নিয়ে তাঁদের ধাওয়া করেন। এ সময় ফেরদৌস হাসানকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ তাঁদের।

তবে প্রত্যক্ষদর্শী গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের এক শিক্ষার্থী জানান, ফেরদৌসকে হাসপাতালে নেওয়ার মতো তাঁর বিভাগের কেউ ঘটনাস্থলে না থাকায় ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীই রিকশায় করে তাঁকে রাবি মেডিকেল সেন্টারে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।

রাবি মেডিকেলের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় চারজনকে তাঁরা পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁদের অ্যাম্বুলেন্সে করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ফেরদৌস হাসানের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এ এইচ এম খুরশীদ আলম বলেন, ‘সর্বশেষ যে তথ্য পেয়েছি, সে আইসিইউতে ভালো আছে এবং বর্তমানে শঙ্কামুক্ত। অক্সিজেন মাস্ক ছাড়াই স্বাভাবিকভাবে শ্বাসপ্রশ্বাস নিচ্ছে। চিকিৎসক তাঁকে সিটি স্ক্যান করতে দিয়েছেন। রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী চিকিৎসা দেওয়া হবে।’

এদিকে সংঘর্ষের ঘটনা তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থল ও ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলো পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন।

তদন্ত কমিটির প্রধান কৃষি অনুষদের সাবেক ডিন ও ক্রপ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটির পর সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ার প্রাথমিক তথ্য তাঁরা পেয়েছেন। ঘটনাস্থলে ভাঙচুর হওয়া দরজা-জানালা পরিদর্শন ও বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।

তিনি জানান, ঘটনার সময় উপস্থিত দুই বিভাগের শিক্ষার্থী, সহকারী প্রক্টর ও প্রক্টরের সঙ্গে কথা বলা হবে। তদন্তে যারা দোষী ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত হিসেবে শনাক্ত হবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে। আগামী রোববারের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়ার আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন দর্শন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আরিফুল ইসলাম এবং আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক সাহাল উদ্দিন।