রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজ (আইবিএস)-এর সিনিয়র ফেলো হিসেবে যোগদান করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. সুলতানা মোস্তফা খানম।
গত ১৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪৮তম সিন্ডিকেট সভায় তাকে আইবিএসের সিনিয়র ফেলো হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অধ্যাপক ড. সুলতানা মোস্তফা খানম ২০২৩ সালে রাবির সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে অবসর নেন। পরে ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত তিনি একই বিভাগে সুপারনিউমেরারি প্রফেসর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
আইবিএস প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পদে এর আগে মাত্র দুজন বাংলাদেশি শিক্ষক দায়িত্ব পালন করেছেন। তারা হলেন ইতিহাসবিদ অধ্যাপক আবদুল করিম এবং অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক সনৎ কুমার সাহা। আইবিএসের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল জানান, অবসরপ্রাপ্ত এবং গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা শিক্ষকদের সাধারণত সিনিয়র ফেলো হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
অধ্যাপক ড. সুলতানা ১৯৮২ সালে রাবির সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক এবং ১৯৮৩ সালে এমএ সম্পন্ন করেন। ১৯৮৭ সালে একই বিভাগে প্রভাষক হিসেবে শিক্ষকতা শুরু করেন। ১৯৯৪ সালে কমনওয়েলথ স্কলারশিপ নিয়ে যুক্তরাজ্যের কিল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেডিকেল সোসিওলজিতে পিএইচডি এবং ২০০৪ সালে কমনওয়েলথ ফেলোশিপের মাধ্যমে ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পোস্টডক সম্পন্ন করেন।
তিনি ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ ইউনিট ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগে ভিজিটিং স্টাফ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। রাবির সমাজবিজ্ঞান বিভাগ ও ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মধ্যে হায়ার এডুকেশন লিংক প্রোগ্রাম প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।
দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থা ও সরকারি মন্ত্রণালয়ের পরামর্শক হিসেবেও কাজ করেছেন অধ্যাপক সুলতানা। ডিএফআইডি, ইউএনডিপি, নোরাড, ডব্লিউএফপি, কেয়ার, বিশ্বব্যাংক, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইউজিসি ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত ১৮টি গবেষণা প্রকল্পে তিনি যুক্ত ছিলেন।
এ ছাড়া তিনি ইউজিসির বিভিন্ন গবেষণা ও প্রকাশনা মূল্যায়ন কমিটি, এইচইকিউইপি এবং বিশ্বব্যাংক-ইউজিসির এরিয়া রিভিউ প্যানেলের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি আইবিএস জার্নালের সম্পাদকীয় বোর্ডের সদস্য।
অধ্যাপক ড. সুলতানা কয়েক দফায় আইবিএসে সহযোগী শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি দুই দফায় সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। তার তত্ত্বাবধানে ১২ জন পিএইচডি এবং সাতজন এমফিল গবেষক গবেষণা সম্পন্ন করেছেন। আন্তর্জাতিক জার্নালে তার প্রকাশিত গবেষণা প্রবন্ধের সংখ্যা ৩৫টির বেশি।
তিনি রাজশাহী সাহিত্য পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন।
শিক্ষা ও ক্যাম্পাস
রাবি
রাবি আইবিএসের সিনিয়র ফেলো হলেন অধ্যাপক ড. সুলতানা মোস্তফা খানম