স্বাস্থ্য

স্বাস্থ্য

কিডনিতে পাথর ঠেকাতে খাদ্যতালিকায় রাখুন যেসব খাবার

কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমাতে পর্যাপ্ত পানি পান, সুষম খাবার গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরে পানির ঘাটতি, প্রস্রাবে বিভিন্ন খনিজের ঘনত্ব বেড়ে যাওয়া ও ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেশি থাকাসহ নানা কারণে কিডনিতে পাথর তৈরি হতে পারে।

অনলাইন ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত

কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমাতে পর্যাপ্ত পানি পান, সুষম খাবার গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরে পানির ঘাটতি, প্রস্রাবে বিভিন্ন খনিজের ঘনত্ব বেড়ে যাওয়া ও ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেশি থাকাসহ নানা কারণে কিডনিতে পাথর তৈরি হতে পারে। তাই পাথর প্রতিরোধে খাদ্যাভ্যাস ও দৈনন্দিন জীবনযাপনে সচেতনতা প্রয়োজন।

কিডনি শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর একটি। রক্ত পরিশোধনের পাশাপাশি শরীরের বর্জ্য ও অতিরিক্ত পদার্থ প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিভিন্ন কারণে কিডনিতে পাথর তৈরি হতে পারে। একবার পাথর হওয়ার প্রবণতা তৈরি হলে খাবার ও দৈনন্দিন অভ্যাসের দিকে বাড়তি নজর দেওয়া প্রয়োজন।

পর্যাপ্ত পানি পান

কিডনিতে পাথর প্রতিরোধে পর্যাপ্ত পানি পান অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস। শরীরে পানির ঘাটতি হলে প্রস্রাব ঘন হয়ে যায়। এতে বিভিন্ন খনিজ ও লবণ জমে ক্রিস্টাল তৈরি হতে পারে, যা পরবর্তী সময়ে পাথরে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ায়। বিশেষ করে গরম পরিবেশে কাজ করা বা অতিরিক্ত ঘাম হলে পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি।

ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার বাদ নয়

কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি থাকলে অনেকেই ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার পুরোপুরি বাদ দেন। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী ক্যালসিয়াম গ্রহণ করা উচিত। দুধ ও দুগ্ধজাত খাবারসহ ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ পুষ্টিকর খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ না করাই ভালো।

সুষম খাবারে গুরুত্ব

শরীরের প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি পূরণে সুষম খাবার গুরুত্বপূর্ণ। দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, ডিম, বাদাম ও বিভিন্ন বীজজাতীয় খাবার পরিমিত পরিমাণে খাওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি পরিমিত সময় সূর্যের আলোতে থাকাও শরীরের জন্য উপকারী।

ইউরিক অ্যাসিড বেশি হলে সতর্কতা

রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেশি থাকলে নির্দিষ্ট ধরনের কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এমন ক্ষেত্রে লাল মাংস, অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মাংস ও কিছু সামুদ্রিক খাবার অতিরিক্ত না খেয়ে পরিমিত খাওয়া উচিত। ব্যক্তিভেদে খাদ্যাভ্যাসের প্রয়োজন ভিন্ন হতে পারে। তাই চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

ফলমূল রাখুন খাদ্যতালিকায়

লেবু, আমলকি, আমড়া, জাম ও জাম্বুরার মতো ফল নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। এসব ফলে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান রয়েছে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত ভিটামিন বা সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ না করে স্বাভাবিক খাবার থেকেই পুষ্টি পাওয়ার চেষ্টা করা উচিত।

জিংকের উৎস

শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় খনিজগুলোর মধ্যে জিংক অন্যতম। ডিম, মাছ, মাংস, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবারের পাশাপাশি ডাল, শিমের বিচি ও মটরশুঁটি থেকেও জিংক পাওয়া যায়। সুষম খাদ্যতালিকায় এসব খাবার পরিমিত পরিমাণে রাখা যেতে পারে।

খাবারের পাশাপাশি জীবনযাপনও গুরুত্বপূর্ণ

কিডনিতে পাথর প্রতিরোধে শুধু নির্দিষ্ট কোনো একটি খাবারের ওপর নির্ভর করলে হবে না। পর্যাপ্ত পানি পান, পরিমিত ও সুষম খাবার গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের সমন্বয় জরুরি।

আগে কিডনিতে পাথর হয়ে থাকলে বা বারবার একই সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কারণ পাথরের ধরন ও কারণ অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাসের পরামর্শও ভিন্ন হতে পারে।