বাংলাদেশে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গণগ্রেপ্তার ও কারাগারে নির্যাতনের খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে বাংলাদেশের নির্বাচন ঘিরে অপতথ্য ছড়ানোর প্রবণতাকে উদ্বেগজনক বলেছে দেশটি। স্থানীয় সময় গত বুধবার ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এ উদ্বেগের কথা জানান যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার।
ব্রিফিংয়ে ব্রিটিশ দৈনিক ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসে প্রকাশিত নির্বাচন ঘিরে বাংলাদেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র এবং বিরোধী দলের বিরুদ্ধে ভুয়া খবর ও ভিডিও ছড়ানো প্রতিবেদন সম্পর্কে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। এ নিয়ে মিলার বলেন, বাংলাদেশে নির্বাচনবিষয়ক অপতথ্য ছড়ানোর ক্ষেত্রে ডিপ ফেইক ব্যবহারের উদ্বেগজনক খবর আমরা দেখেছি। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে নিজের পক্ষে কাজে লাগাতে এবং প্রভাবিত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ব্যবহারের বৈশ্বিক প্রবণতার অংশ এটি।
৭ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে বাংলাদেশের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঘোষণার মতো কিছু আজ (বুধবার) আমার হাতে নেই। নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার আগে তা নিয়ে পর্যালোচনা করা আমাদের দীর্ঘদিনের রীতিতে নেই।
যুক্তরাষ্ট্রকে ম্যানেজ করার বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলমের সম্প্রতি দেওয়া বক্তব্য এবং বিরোধী নেতাকর্মীদের গণগ্রেপ্তার ও কারাগারে নির্যাতন নিয়ে মিলারের কাছে প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হয়। তিনি বলেন, বিরোধী দলের হাজার হাজার সদস্যকে গণগ্রেপ্তার এবং কারাগারে নির্যাতনের খবরে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। সবপক্ষকে সংযমী হওয়ার এবং সহিংসতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই—এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করতে, সব অংশীজনের সঙ্গে কাজ করতে, যাতে মুক্তভাবে, সহিংসতা আর প্রতিশোধের ভীতি ছাড়াই সবাই নির্বাচনপূর্ব এবং নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নিতে পারে। আমাদের বিশ্বাস, একটি সুস্থ গণতন্ত্রে ভিন্নমতের স্বাধীনতা, সংলাপ ও আলোচনা সংকটের সমাধান দেয়।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগারে ‘বিষ প্রয়োগ ও অপচিকিৎসা’ দেওয়ার অভিযোগ তুলে চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে পাঠানোর বিষয়েও প্রশ্ন করা হয় মিলারকে। এ বিষয়ে কোনো উত্তর না দিয়ে পরের প্রশ্নে চলে যান তিনি।