নেপালের নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী রসুয়া জেলায় আকস্মিক বন্যায় ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৩৪১ পর্যটক, যাদের অধিকাংশই বিদেশি নাগরিক। খবর রয়টার্সের।
নেপালের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ পর্যটকদের মধ্যে যুক্তরাজ্যের ১২ জন নাগরিক রয়েছেন। এছাড়া ভারত, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও নেদারল্যান্ডসের নাগরিকও নিখোঁজ রয়েছেন।
বুধবার ভোরে রাজধানী কাঠমান্ডুর উত্তরে রসুয়া জেলায় আকস্মিক বন্যা আঘাত হানে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের পর তুষারধস থেকে এই আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। তবে ভূমিকম্প ও তুষারধসের বিষয়টি এখনো যাচাই করা হচ্ছে।
উদ্ধার অভিযানে নেপালের সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন। অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজে ১৫টি হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ৮৮ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং মাইলুং গ্রামে আরও ১১৫ জনকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, এ ঘটনায় ২৬ পুলিশ সদস্য, নয়জন সশস্ত্র পুলিশ সদস্য ও ৪৪ সেনা সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন। কাস্টমস ও ইমিগ্রেশনের কয়েকজন কর্মকর্তাও নিখোঁজ রয়েছেন।
বন্যায় সড়ক, সেতু, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জলবিদ্যুৎ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। রসুয়া ও নুওয়াকোট জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ত্রিশুলি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানের সেতু ভেসে গেছে।
এদিকে সীমান্তের অপর পাশে চীনের তিব্বতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নিখোঁজদের উদ্ধারে সর্বাত্মক তৎপরতা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। চীনও উদ্ধার ও ত্রাণকাজে দল পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বন্যার পর দেশটির আট নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। আরও ১০ দক্ষিণ কোরীয় নাগরিক ওই এলাকায় আটকা পড়েছেন। তাদের উদ্ধারে নেপাল সরকার একটি হেলিকপ্টার পাঠিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, দুর্যোগের আগে কোনো কার্যকর সতর্কবার্তা পাওয়া যায়নি। প্রবল বাতাস, ভূমিধস ও সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় উদ্ধার অভিযানও ব্যাহত হচ্ছে।