আন্তর্জাতিক

নেপাল

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় মৃত্যু বেড়ে ৪৬৯, নিখোঁজ ১৪০০

দুই দেশ মিলিয়ে পর্যটকসহ ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

অনলাইন ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত

হিমবাহ ধস থেকে সৃষ্ট আকস্মিক ভয়াবহ বন্যায় নেপালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল ১০টা পর্যন্ত এ সংখ্যা নিশ্চিত করেছে দেশটির পুলিশ। এ ছাড়া তিব্বতে তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। দুই দেশ মিলিয়ে পর্যটকসহ ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়েছে। ধ্বংসস্তূপ ও কাদার মধ্যে ভারী যন্ত্রপাতি ও প্রশিক্ষিত কুকুর দিয়ে নিখোঁজদের সন্ধান চলছে। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে নিখোঁজদের জীবিত উদ্ধারের আশা কমছে।

দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। নেপালের সেনাবাহিনী হেলিকপ্টারে করে দুর্গম এলাকায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারের পাশাপাশি জরুরি ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছে।

এদিকে বন্যার পানির সঙ্গে নেমে আসা ধ্বংসাবশেষে রাসুওয়া জেলার ভোতেকোশি নদীর একটি অংশ আটকে গিয়ে হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে পানির উচ্চতা ক্রমেই বাড়ছে। পানি আরও বাড়লে ভাটির দিকে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দা ও উদ্ধারকর্মীদের দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

তিব্বতেও নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাঁধ দিয়ে অবরুদ্ধ একটি হ্রদে আগামী তিন দিনে প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি প্রবেশ করতে পারে। আগামী ১ সেপ্টেম্বর পানির প্রবাহ সর্বোচ্চ হতে পারে। এতে হ্রদের বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বন্যাকবলিত মানুষের জরুরি চিকিৎসা, আশ্রয় ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করতে প্রাথমিকভাবে ২০ লাখ ডলার সহায়তা বরাদ্দ করেছে জাতিসংঘ। নিখোঁজ নাগরিকদের সন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রমে নেপালকে সহায়তার উদ্যোগ নিয়েছে বিভিন্ন দেশ।