জাতীয়

১১ দলের লংমার্চে জামায়াত আমীর

চাঁদাবাজদের জ্বালায় জনগণ অতিষ্ঠ

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা কোনো দল, ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর জন্য এই রাস্তায় নামিনি। আমরা নেমেছি বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের পক্ষে। চাঁদাবাজদের জ্বালায় জনগণ অতিষ্ঠ। দুর্নীতিবাজদের হাতে জনগণের অধিকার লুণ্ঠিত হচ্ছে। গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের সংকট থাকলেও বিল ঠিকই দিতে হচ্ছে। এমনকি বিদ্যুতের ভূতুড়ে বিল নিয়েও জনগণের ভোগান্তি রয়েছে।

রাজটাইম ডেস্ক

জনগণের অধিকার আদায়ে কোনো বাধাকেই পরোয়া না করে গন্তব্যে পৌঁছানোর ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, জনগণের দাবি আদায়ের জন্যই ১১ দল রাজপথে নেমেছে। গন্তব্যের পথে বাধা এলেও লড়াই করেই তারা এগিয়ে যাবেন এবং ইনশাআল্লাহ চট্টগ্রামে পৌঁছাবেন।

শনিবার সকালে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ১১ দলীয় জোটের চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশ শেষে সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে চট্টগ্রামের উদ্দেশে লংমার্চ যাত্রা শুরু করে। পথে নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, ফেনী ও চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে পথসভা করার কথা রয়েছে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা কোনো দল, ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর জন্য এই রাস্তায় নামিনি। আমরা নেমেছি বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের পক্ষে। জনগণের দাবি আদায়ের জন্যই আমাদের এই কর্মসূচি। জনগণের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেললে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’

দেশের মানুষ বিভিন্ন সংকটে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, চাঁদাবাজদের জ্বালায় জনগণ অতিষ্ঠ। দুর্নীতিবাজদের হাতে জনগণের অধিকার লুণ্ঠিত হচ্ছে। গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের সংকট থাকলেও বিল ঠিকই দিতে হচ্ছে। এমনকি বিদ্যুতের ভূতুড়ে বিল নিয়েও জনগণের ভোগান্তি রয়েছে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে গ্রেপ্তার হওয়া সিফাতের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমীর বলেন, তার মুখের ভাষাকে সমর্থন না করলেও তিনি যে বিষয়ে প্রতিবাদ করেছেন, সেই প্রতিবাদের সঙ্গে দেশের মানুষের ক্ষোভের যোগ রয়েছে। সিফাতকে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভালোয় ভালোয় তাকে ছেড়ে দেওয়া উচিত। অন্যথায় পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা কেউ বলতে পারে না।

লংমার্চের কর্মসূচি প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের দাবি আদায়ের অঙ্গীকার পূরণ করতেই এ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে এ কর্মসূচি নিয়ে ‘ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া’ শুরু হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

উদ্বোধনী সমাবেশে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মামুনুল হকসহ ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন।

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, জনগণের দাবি মেনে না নিলে ১১ দলের পক্ষ থেকে দাবি আদায়ে বাধ্য করা হবে। তিনি বলেন, বিরোধী দল প্রথম রাউন্ডের কর্মসূচি শেষ করে দ্বিতীয় রাউন্ড শুরু করেছে। এখনই সতর্ক না হলে অন্যদের মতো তাদেরও একই পরিণতি হতে পারে।

এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, জনগণকে গ্যাস-বিদ্যুৎ দেওয়া হচ্ছে না, এমনকি তাদের কথা বলার সুযোগও দেওয়া হচ্ছে না। দেশের মানুষ কাউকে ক্ষমতায় বসাতে পারে, আবার ক্ষমতা থেকেও উৎখাত করতে পারে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক বলেন, লংমার্চের বার্তা এখনই বুঝতে হবে। তা না হলে অন্য স্বৈরশাসকদের মতো পরিণতি অপেক্ষা করছে।