মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে ভারতের কাছে প্রত্যর্পণের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ। তবে প্রায় নয় মাস পেরিয়ে গেলেও নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে এখনো স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। ফলে হাসিনাকে ফেরানোর ক্ষেত্রে আইনি ও কূটনৈতিক নানা জটিলতা সামনে এসেছে।
২০১৩ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা ২০১৬ সালে সংশোধন করা হয়। চুক্তিতে অপরাধী হস্তান্তরের সুযোগ থাকলেও কিছু ক্ষেত্রে প্রত্যর্পণ প্রত্যাখ্যানের সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে অভিযোগটি রাজনৈতিক অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হওয়া, প্রত্যর্পণকে অন্যায় বা অত্যাচারমূলক মনে হওয়া এবং নিজ দেশে বিচার পরিচালনার মতো বিষয় রয়েছে।
আরেকটি বড় প্রশ্ন হলো, শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাকে ফেরত দিলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সম্ভাবনা থাকায় ভারত মানবাধিকার ও আইনি নিশ্চয়তার বিষয়টি সামনে আনতে পারে। এ ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না করার বিষয়ে বাংলাদেশকে কোনো নিশ্চয়তা দিতে হবে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
এ ছাড়া বাংলাদেশের আদালতের রায় ভারতে সরাসরি কার্যকর হয় না। প্রত্যর্পণের ক্ষেত্রে ভারতের নিজস্ব আইন ও আদালতের প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। ফলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক চাপের পাশাপাশি ভারতের আইনি প্রক্রিয়াও বড় ভূমিকা রাখবে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রত্যর্পণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভারতের আদালতের প্রক্রিয়ার ওপরও নির্ভর করতে পারে। অভিযোগগুলো ভারতীয় আইনেও অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় কি না, সেটিও যাচাই করা হতে পারে।
এদিকে গত ৫ আগস্ট এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে তিনি ঠিক কীভাবে বা কোন প্রক্রিয়ায় দেশে ফিরবেন, তা স্পষ্ট নয়।
২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাকে ফেরানো নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কেও এর প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।