বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী মহানগরীর সেক্রেটারী ইমাজ উদ্দিন মন্ডলসহ ৮জন জামায়াত নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ।
গতকাল সোমবার (২২ মার্চ) সকালে রাজশাহী মহানগর আদালত চত্বর থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। তবে জামায়াতের দাবি তারা পূর্ব থেকেই উচ্চ আদালত থেকে জামিন প্রাপ্ত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাজশাহী জেলা জজ আদালতে রাজশাহী মহানগরী জামায়াতের আমীর কেরামত আলী, সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মন্ডল, সাবেক মহানগর শিবির সভাপতিসহ ২০/২৫ জন নেতা হাজিরা দিতে যান। আদালত চত্বরে উপস্থিত হবার পরপরই রাজশাহীর পুলিশ ও ডিবি তাদেরকে ঘেরাও করে।
একপর্যায়ে তাদের কোর্ট কাস্ট-ডিতে আটকিয়ে রাখে পুলিশ। এসময় আইনজীবীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে আদালতে হাজিরা দিতে আসা মামলার জামিন বাতিল হলে সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মন্ডলকে জেল হাজতে প্রেরণ করে পুলিশ। এসময় গণমাধ্যম কর্মীরা ছবি ধারণ করতে গেলে ৩ জন সাংবাদিককে আটকিয়ে রাখা অভিযোগ উঠে। পরে সাংবাদিক নেতাকর্মীরা রাজশাহী মহানগর ডিবি অফিসে আসলে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়।
গ্রেপ্তারকৃত অন্যান্য নেতা-কর্মীরা হলেন মতিহার থানার রবিউল ইসলাম, বোয়ালিয়া উত্তরের সাজ্জাদুল হক, রাজশাহী পূর্ব জিলার শহিদুল ইসলাম, রওশন আলম, মাসারুল ইসলাম ও সোহেল রানা এবং এয়ারপোর্ট থানা এলাকার গিয়াস উদ্দিন।
এ বিষয়ে রাজশাহী মহানগর ডিবি অফিসের একটি সূত্র জানায়, জামায়াতের নেতা-কর্মীদের পুরাতন কয়েকটি মামলায় আটক করা হয়। ইতোপূর্বে তারা মামলার হাজিরা না দেয়ায় তাদের নামে ওয়ারেন্টও জারি হয়।
জামায়াতের নিন্দা ও প্রতিবাদ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী মহানগরীর সেক্রেটারী ইমাজ উদ্দিন মন্ডলসহ ৮ জন জামায়াত নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি প্রদান করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী মহানগরীর আমীর ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ড.মাওলানা কেরামত আলী ও মহানগরীর নায়েবে আমীর ও কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য অধ্যক্ষ সিদ্দিক হোসেন এবং নায়েবে আমীর এ্যড.আবু মোহাম্মদ সেলিম।
নেতৃবৃন্দ বলেন, যখন জামায়াতের নেতা কর্মীরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিভিন্ন মামলায় হাজিরা দিতে আদালত চত্বরে উপস্থিত হবার পরপরই মহানগর পুলিশ ও ডিবি তাদেরকে ঘেরাও করে। আদালত চত্বরে পুলিশের এই ভূমিকা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। রাজশাহী মহানগরী সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মন্ডল পুলিশের বেষ্টনি ভেদ করে আদালতের ভেতরে প্রবেশ করতে সক্ষম হন। পুলিশের হয়রানি থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য আদালতে নিরাপত্তার আশ্রয় চাইলে তাকে জেলে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়। পুলিশ আদালত অঙ্গণ থেকে আরও ৯ জনকে গ্রেফতার করে। নেতৃবৃন্দ অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তারকৃত মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারিসহ অন্যান্য নেতাকর্মীদের মুক্তির জোর দাবী জানান তারা।