রাজশাহীর পুঠিয়ায় চারআনি রাজবংশের শেষ রাজা নরেশ নারায়ণের স্ত্রী কমর বেগমের ঐতিহাসিক পালঙ্কসহ রাজবাড়ির বেশ কিছু ঐতিহ্যবাহী সামগ্রী উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের বাড়িতে ব্যবহৃত এসব সামগ্রী এখন পুঠিয়া রাজবাড়ির জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হবে।
রোববার দুপুরে মাছচাষি ইকবালুর রহমান ইলুর বাড়ি থেকে ঐতিহাসিক পালঙ্কটি উদ্ধার করা হয়। এ সময় পার্শ্ববর্তী ইয়াকুব স্বর্ণকারের বাড়ি থেকে রাজবাড়ির একটি পুরোনো খাট ও ড্রেসিং টেবিলের অংশবিশেষ এবং ভোলানাথ দত্তের বাড়ি থেকে তিনটি ঝাড়বাতি উদ্ধার করা হয়।
পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিয়াকত সালমান জানান, রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের নির্দেশনায় এসব ঐতিহ্যবাহী সামগ্রী উদ্ধারে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। উদ্ধার করা সব পুরাকীর্তি দর্শনার্থীদের জন্য পুঠিয়া রাজবাড়ির জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হবে।
ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, চারআনি রাজবংশের শেষ রাজা নরেশ নারায়ণের সঙ্গে তাঁর প্রথম স্ত্রী সুরেশ্বরী দেবীর সম্পর্ক ভালো না থাকায় তিনি কলকাতায় চলে যান। সেখানে তিনি মুসলিম নারী কমর বেগমকে বিয়ে করেন। পরে রাজা নরেশ নারায়ণের মৃত্যুর পর কমর বেগম পুঠিয়ায় এসে চারআনি রাজবাড়িতে বসবাস শুরু করেন। ১৯৮৭ সালে তিনি সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন।
মাছচাষি ইলুর দাবি, ১৯৯১ সালে আর্থিক অনটনে পড়ে কমর বেগমের মেয়ে রেজিনা জামাল তাঁর স্কুলশিক্ষক বাবা আবদুর রহমান খানের কাছে ১০ হাজার টাকায় পালঙ্কটি বিক্রি করেছিলেন। এরপর থেকে পালঙ্কটি তাঁদের বাড়িতে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।
অভিযান পরিচালনাকালে পুঠিয়া রাজবাড়ির কাস্টোডিয়ান হাফিজ উদ্দিন, স্থানীয় পৌর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় সাংবাদিকদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।