আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে প্রস্তুতি শুরু করেছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। নির্বাচন কমিশন আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে তফসিল ঘোষণা করতে পারে। এর আগেই সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাইয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে দলগুলো।
বিএনপি এখনো কোনো সিটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত করেনি। অন্যদিকে বেশিরভাগ সিটিতে প্রার্থী ঘোষণা করেছে জামায়াত। ছয়টি সিটে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে এনসিপি।
বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী
ঢাকা দক্ষিণে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও বর্তমান সিটি প্রশাসক আব্দুস সালাম এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের নাম আলোচনায় রয়েছে।
ঢাকা উত্তরে তাবিথ আউয়াল, এম এ কাইয়ুম ও বর্তমান সিটি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের নাম রয়েছে। চট্টগ্রামে বর্তমান মেয়র ডা. শাহাদাৎ হোসেন, আবুল হাশেম বক্কর ও নাজিমুর রহমান আলোচনায় রয়েছেন।
রাজশাহী সিটিতে বর্তমান প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন, বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শওকত শাহীন, মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন অর রশিদ এবং সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের নাম রয়েছে।
বরিশালে সাবেক প্যানেল মেয়র কে এম শহিদুল্লাহ, অ্যাডভোকেট মীর জাহিদুল কবির জাহিদ, মনিরুজ্জামান ফারুক, বর্তমান প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীনসহ একাধিক নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে।
খুলনায় বর্তমান প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জুর, মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনা ও সাবেক মেয়র মনিরুজ্জামান মনিরের নাম রয়েছে।
সিলেটে ইশতিয়াক আহমদ সিদ্দিকী, মিফতাহ সিদ্দিকী, রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, নাসিম হোসাইন ও এমদাদ হোসেন চৌধুরীর নাম আলোচনায় রয়েছে।
কুমিল্লায় সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু, বর্তমান প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু, উৎবাতুল বারী আবু ও কাউসার জামান বাপ্পীর নাম রয়েছে।
রংপুরে বর্তমান প্রশাসক মাহফুজুন্নবী ডনের প্রার্থিতা অনেকটাই নিশ্চিত বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। পাশাপাশি শহীদুল ইসলাম মিজু ও শামসুজ্জামান শামুর নামও আলোচনায় রয়েছে।
ময়মনসিংহে এমরান সালেহ প্রিন্স, শাহ শহীদ সারোয়ার, অ্যাডভোকেট সৈয়দ এনায়েতুর রহমান ও আমিনুল হকের নাম রয়েছে। গাজীপুরে এখনো সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম জানা যায়নি।
নারায়ণগঞ্জে বর্তমান প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান, জাকির খান, রাকিবুল ইসলাম খান ও বহিষ্কৃত নেতা তৈমুর আলম খন্দকারের নাম আলোচনায় রয়েছে। নবগঠিত বগুড়া সিটিতে বর্তমান প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীনকে প্রার্থী করা হতে পারে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
বিএনপির দলীয় সূত্র বলছে, মেয়র পদে ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাদের মূল্যায়ন করা হবে। বিতর্কিতদের সুযোগ না দেওয়ার নীতিতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
বেশিরভাগ সিটে জামায়াতের প্রার্থী ঘোষণা
বিএনপির আগে বেশিরভাগ সিটে প্রার্থী ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী। ঢাকা উত্তরে সেলিম উদ্দিন, ঢাকা দক্ষিণে সাদিক কায়েম, চট্টগ্রামে শামসুজ্জামান হেলালী, বরিশালে মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, রংপুরে এটিএম আজম খান, ময়মনসিংহে কামরুল আহসান এমরুল, নারায়ণগঞ্জে আব্দুল জব্বার এবং গাজীপুরে হাফিজুর রহমানকে মেয়র প্রার্থী করেছে দলটি।
কুমিল্লা, সিলেট, খুলনা ও বগুড়া সিটিতে এখনো প্রার্থী ঘোষণা করেনি জামায়াত। খুলনায় দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের নাম আলোচনায় রয়েছে। কুমিল্লায় কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, মাস্টার মোসলেহ উদ্দিন ও ভিপি মজিবের নাম এবং বগুড়ায় আবিদুর রহমান সোহেলের নাম আলোচনায় রয়েছে।
ছয় সিটে এনসিপির প্রার্থী চূড়ান্ত
জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের শরিক হলেও সিটি নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে এনসিপি। ইতোমধ্যে ছয়টি সিটে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে দলটি।
ঢাকা দক্ষিণে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, ঢাকা উত্তরে আরিফুল ইসলাম আদীব, সিলেটে অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান আফজাল, রাজশাহীতে মোবাশ্বের আলী এবং কুমিল্লায় অ্যাডভোকেট তরিকুল ইসলামকে প্রার্থী করা হয়েছে। চট্টগ্রামসহ অন্য সিটগুলোতে প্রার্থী বাছাই চলছে।
এদিকে গত ২১ আগস্ট বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে রাজশাহী বিভাগের নেতাদের বৈঠকের পর দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে অংশ নেবে। যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের ছাড় না দেওয়ার পাশাপাশি দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কথাও জানান তিনি।
এনসিপিও এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা জানিয়েছে। গত ২৪ আগস্ট চট্টগ্রামের এক কর্মসূচিতে দলটির উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, অধিকাংশ সিটে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হয়েছে। নির্বাচনে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করার পাশাপাশি নতুন নেতৃত্ব তৈরির লক্ষ্য রয়েছে তাদের।