রাজশাহীতে মাদক সেবনের জন্য টাকা না পেয়ে মা ও ছোট ভাইকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে মেহেদী হাসান মুন্না (৩৪) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে এবং হামলায় ব্যবহৃত বঁটি উদ্ধার করে।
শুক্রবার (২২ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাজশাহী মহানগরীর চন্দ্রিমা থানার মেহেরচণ্ডী উত্তরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন—মুন্নার মা মোছা. মনোয়ারা খাতুন টুলু (৫৫) ও ছোট ভাই মো. মৃদুল (২৮)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মুন্না দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। তার মানসিক সমস্যাও রয়েছে বলে পরিবার ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তাকে কয়েকবার পুনর্বাসন কেন্দ্রে (রিহ্যাব) পাঠানো হয়েছিল। সেখান থেকে ফিরে রিকশা চালালেও নিয়মিত মাদক সেবন করতেন তিনি।
ঘটনার রাতে নেশার টাকার জন্য মা ও ভাইয়ের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বঁটি নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান মুন্না। তাদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন।
চন্দ্রিমা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মাহাবুব সিদ্দিকী জানান, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে। হামলার ঘটনায় মা ও ভাইয়ের পাশাপাশি গণপিটুনিতে মুন্নাও আহত হন।
বর্তমানে মনোয়ারা খাতুন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ২ নম্বর ওয়ার্ডে এবং মুন্না ও মৃদুল ৮ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রামেক হাসপাতাল পুলিশ বক্সের ইনচার্জ এসআই আকরামুজ্জামান জানান, তিনজনকেই জরুরি বিভাগে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের অবস্থা সংকটাপন্ন।
এ ঘটনায় আহত মনোয়ারা খাতুনের মেয়ে বাদী হয়ে চন্দ্রিমা থানায় মামলা করেন। মামলার ভিত্তিতে মুন্নাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হামলায় ব্যবহৃত ধারালো বঁটিটিও উদ্ধার করেছে পুলিশ। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সুস্থ হলে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনায় আহতদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তা গুজব বলে জানিয়েছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি)।
আরএমপির মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) গাজিউর রহমান বলেন, কিছু ফেসবুক আইডি ও পেজ থেকে ভুক্তভোগীদের মৃত্যুর বিষয়ে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে তাদের কেউ মারা যাননি। তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার বা শেয়ার না করার জন্য সবাইকে অনুরোধ করা হচ্ছে।