রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (রাকসু) থেকে অর্থ উত্তোলন ও ব্যয়ের বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদকে ‘অসত্য, অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর’ বলে দাবি করেছে রাকসু। একই সঙ্গে সংবাদ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট নথি ও হিসাব যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (রাকসু) থেকে অর্থ উত্তোলন ও ব্যয়ের বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদকে ‘অসত্য, অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর’ বলে দাবি করেছে রাকসু। একই সঙ্গে সংবাদ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট নথি ও হিসাব যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
রোববার (২৩ আগস্ট) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাকসু কোষাধ্যক্ষের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলেন রাকসুর বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক ইমরান ই লস্কর।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, রাকসুর বিভিন্ন সম্পাদক ও সংশ্লিষ্ট খাত বিবেচনায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৮৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। রাকসুর অধিবেশনে অনুমোদিত এজেন্ডা ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্যই সংশ্লিষ্ট খাতে এসব অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। কিন্তু কয়েকটি প্রতিবেদনে অর্থ উত্তোলনের পরিমাণ ‘সোয়া এক কোটি টাকা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা তথ্যগতভাবে সঠিক নয়।
রাকসুর পক্ষ থেকে বলা হয়, কোনো আর্থিক বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের আগে বরাদ্দের খাত, অনুমোদিত এজেন্ডা, অর্থ উত্তোলনের ধরন, ব্যয়ের উদ্দেশ্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন। এসব যাচাই ছাড়া খণ্ডিত তথ্যের ভিত্তিতে আর্থিক অনিয়মের ইঙ্গিত দেওয়া সাংবাদিকতার বস্তুনিষ্ঠতা ও ভারসাম্যের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
সাংবাদিক সম্মেলনে বলা হয়, রাকসুর তহবিলের প্রকৃত অর্থ ও পূর্ববর্তী সময়ের হিসাব উদ্ধারের জন্য প্রশাসনের প্রতি উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছিল। দীর্ঘ ৩৫ বছরের হিসাব চাওয়া হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত হিসাব উপস্থাপন করা সম্ভব হয়।
পরে রাকসুর তৎকালীন সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের উদ্যোগে ২০০৫ সাল পর্যন্ত পাওয়া হিসাব পর্যালোচনা করা হয়। এতে প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ টাকার হিসাব পাওয়া যায় বলে দাবি করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ২ কোটি টাকা এবং অবশিষ্ট প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা শিক্ষার্থীদের কল্যাণমূলক কার্যক্রমে ব্যয়ের বিষয়ে রাকসুর অধিবেশনে এজেন্ডা নেওয়া হয়।
তবে ১৯৯১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ হিসাব উদ্ধার ও যাচাইয়ের বিষয়ে বর্তমান প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ করেছে রাকসু।
রাকসুর পক্ষ থেকে বলা হয়, অসম্পূর্ণ ও আংশিক তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনের কারণে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। কোনো গণমাধ্যম যাচাই-বাছাই ছাড়া এমন সংবাদ প্রকাশ করে থাকলে প্রকৃত তথ্য একই গুরুত্ব ও দৃশ্যমানতায় প্রকাশ করে সংশোধনী ও দুঃখপ্রকাশ করা প্রত্যাশিত।
অন্যথায় সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম ও প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আইনগত নোটিশসহ প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রাকসু সংরক্ষণ করে বলেও জানানো হয়।
সাংবাদিক সম্মেলনে আরও বলা হয়, রাকসুর আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে ভবিষ্যতে বিভ্রান্তি এড়াতে প্রত্যেক সম্পাদক কর্তৃক উত্তোলিত অর্থ, সংশ্লিষ্ট কর্মসূচি ও খাত, ব্যয়ের বিবরণ এবং অবশিষ্ট বা জমাকৃত অর্থের হিসাব পর্যায়ক্রমে নথিভিত্তিকভাবে প্রকাশ করা হবে।
রাকসু বলেছে, শিক্ষার্থীদের এই গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের অর্থ ও কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা তাদের দায়িত্ব। তথ্য, নথি ও প্রমাণের ভিত্তিতেই এ বিষয়ে যেকোনো প্রশ্নের জবাব দেওয়া হবে।
সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মার, সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) সালমান সাব্বিরসহ রাকসুর অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।