রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার মৌগাছী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত নাতে রাসূল (সা.) প্রতিযোগিতায় সনাতন ধর্মাবলম্বী এক শিক্ষককে বিচারকের দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কয়েকজন অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে নাতে রাসূল (সা.) প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক রতেশ্বরী রাণী দাসকে বিচারকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে একাধিক মুসলিম শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও ধর্মীয় বিষয়ভিত্তিক এ প্রতিযোগিতার বিচারক হিসেবে সনাতন ধর্মাবলম্বী একজন শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত নিয়ে তারা প্রধান শিক্ষক মোসা. সাহিদা পারভীনের সমালোচনা করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক বলেন, নাতে রাসূল (সা.) একটি ধর্মীয় ও সংবেদনশীল বিষয়। এ ধরনের প্রতিযোগিতায় বিচারক নির্বাচনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। বিদ্যালয়ে মুসলিম শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও তাদের কাউকে বিচারকের দায়িত্ব না দেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে।
অভিভাবকদের কেউ কেউ আরও অভিযোগ করেন, প্রধান শিক্ষক এককভাবে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিচারকের তালিকা পরিবর্তনের অনুরোধ জানানো হলেও তিনি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেননি।
বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকও নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রধান শিক্ষকের সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাদের মতে, ধর্মীয়ভাবে সংবেদনশীল কোনো কর্মসূচির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক মোসা. সাহিদা পারভীন বলেন, “অমুসলিম শিক্ষককে বিচারক হিসেবে রাখা হয়নি। যারা এ ধরনের প্রচারণা করছেন, তারা আমাকে হেয় করার উদ্দেশ্যে এমন করছেন। ওই শিক্ষক অনুষ্ঠানে ছিলেন এবং ছবি তোলার দায়িত্বে ছিলেন।”
তবে শিক্ষক রতেশ্বরী রাণী দাস নিজেই বিচারক থাকার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “আজকের প্রতিযোগিতায় আমিও একজন বিচারক ছিলাম। আমি নিজেও হামদ-নাত জানি। তাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক আমাকে বিচারক হিসেবে রেখেছেন।”
এ বিষয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবজাল বলেন, “আমরা বিষয়টি অবগত ছিলাম। আপনি কল দেওয়ার কিছুক্ষণ আগেই জানতে পেরেছি। তবে আমাকে এ বিষয়ে আগে কিছু জানানো হয়নি।”
ঘটনার বিষয়ে জানতে মোহনপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লায়লা আরজুমান্দের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।