স্পেশাল ফিচার

এসএসডি-র‍্যাম-গ্রাফিকস কার্ডের দাম বেড়েছে, কমেছে বিক্রি

কম্পিউটার ও ল্যাপটপের যন্ত্রাংশের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন রাজশাহীর ক্রেতারা। বিশেষ করে এসএসডি, র‍্যাম, প্রসেসর, মাদারবোর্ড, হার্ডডিস্ক ও গ্রাফিকস কার্ডের দাম বেড়ে যাওয়ায় আগের বাজেটে পছন্দের যন্ত্রাংশ কিনতে পারছেন না অনেকেই।

নিজস্ব প্রতিবেদক
ছবি: রাজ টাইমস

কম্পিউটার ও ল্যাপটপের যন্ত্রাংশের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন রাজশাহীর ক্রেতারা। বিশেষ করে এসএসডি, র‍্যাম, প্রসেসর, মাদারবোর্ড, হার্ডডিস্ক ও গ্রাফিকস কার্ডের দাম বেড়ে যাওয়ায় আগের বাজেটে পছন্দের যন্ত্রাংশ কিনতে পারছেন না অনেকেই। নগরীর নিউমার্কেট এলাকার কম্পিউটার বাজারে পণ্য কিনতে এসে দাম শুনে ফিরে যাচ্ছেন কেউ কেউ।

ল্যাপটপের জন্য এসএসডি কিনতে এসে দামের বড় ব্যবধান দেখে হতবাক হয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী জুবায়ের জিসান। তিনি জানান, গত বছর যে এসএসডি ১ হাজার ৮০০ টাকায় কিনেছিলেন, বর্তমানে একই ধরনের এসএসডি কিনতে তাকে গুনতে হচ্ছে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকা।

জুবায়ের জিসান বলেন, ‘আমি গত বছর এসএসডি কার্ড লাগিয়েছিলাম, তখন এর দাম ছিল ১ হাজার ৮০০ টাকা। কিন্তু আজ এসে দেখি, সেটির দাম ৪ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকা হয়ে গেছে। এছাড়াও বাজারে কম্পিউটারের অন্যান্য পার্টসের দামও অনেকটাই বেড়ে গেছে।’

এসএসডির দামেও বড় চাপ

রাজশাহীর নিউমার্কেট এলাকার বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের এসএসডির দামও বেড়েছে। স্যামসাংয়ের পিএম৯৯১এ ২৫৬ জিবি এসএসডির দাম প্রায় ৪ হাজার ৮০০ টাকা। ৯৯০ প্রো এনভিএমই ১ টেরাবাইটের দাম প্রায় ৩২ হাজার ৫০০ টাকা এবং ২ টেরাবাইটের দাম প্রায় ৫১ হাজার টাকা।

করসেয়ারের এমপি৬০০ প্রো ১ টেরাবাইট এসএসডি প্রায় ২৩ হাজার ৫০০ টাকা এবং এমপি৬০০ ৫০০ জিবি প্রায় ১৪ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

চড়া হার্ডডিস্কের বাজার

স্টোরেজ ডিভাইসের মধ্যে হার্ডডিস্কের দামও ক্রেতাদের বাড়তি চাপে ফেলেছে। সিগেট বারাকুডা ২ টেরাবাইটের দাম প্রায় ১৭ হাজার ২০০ টাকা এবং ৪ টেরাবাইটের দাম ২২ হাজার ৫০০ টাকা। তোশিবার পি৩০০ ২ টেরাবাইট প্রায় ১৪ হাজার টাকা এবং এক্স৩০০ ৪ টেরাবাইট প্রায় ৩৪ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বহনযোগ্য হার্ডডিস্কের দামও বেড়েছে। ওয়েস্টার্ন ডিজিটালের মাই পাসপোর্ট ১ টেরাবাইটের দাম প্রায় ১০ হাজার ৯০০ টাকা, ২ টেরাবাইট ১৩ হাজার ৫০০ টাকা এবং ৪ টেরাবাইট ১৮ হাজার ৫০০ টাকা। ট্রান্সসেন্ডের ১ টেরাবাইটের একটি মডেল প্রায় ১৫ হাজার ৫০০ টাকা এবং ৪ টেরাবাইটের একটি মডেল প্রায় ৩২ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

গ্রাফিকস কার্ডেও বাড়তি খরচ

গ্রাফিকস কার্ডের বাজারেও উচ্চক্ষমতার পণ্য কিনতে ক্রেতাদের বড় অঙ্কের অর্থ গুনতে হচ্ছে। গিগাবাইটের আরটিএক্স ৩০৫০ ৬ জিবির দাম প্রায় ৩০ হাজার টাকা এবং ৮ জিবির দাম প্রায় ৩৪ হাজার টাকা। আসুসের ডুয়াল আরটিএক্স ৩০৫০ ৬ জিবি প্রায় ৩৩ হাজার টাকা এবং ৮ জিবি প্রায় ৩৪ হাজার ৫০০ টাকা।

এমএসআইয়ের আরটিএক্স ৩০৫০ ৬ জিবির দাম প্রায় ৩২ হাজার টাকা, আরটিএক্স ৩০৬০ ১২ জিবি প্রায় ৪৯ হাজার ৫০০ টাকা এবং আরটিএক্স ৪০৬০ প্রায় ৬৭ হাজার টাকা। উচ্চক্ষমতার আরটিএক্স ৫০৮০ ১৬ জিবি মডেলের দাম প্রায় ২ লাখ টাকা পর্যন্ত।

দাম বাড়ায় কমেছে বিক্রি

নগরীর একটি কম্পিউটার দোকানের টেকনিশিয়ান মো. সাকিব হাসান মিলন বলেন, ‘কম্পিউটারের প্রায় সব পার্টসের দাম বেড়েছে। এসএসডি, র‍্যাম, প্রসেসর ও মাদারবোর্ডসহ অনেক যন্ত্রাংশের দাম দ্বিগুণ-তিনগুণ হয়েছে। ক্রেতারা এসে দাম দেখছেন, কিন্তু বাজেটের মধ্যে না কুলালে পণ্য না কিনেই ফিরে যাচ্ছেন।’

তিনি বলেন, ‘৫০ হাজার টাকা বাজেট নিয়ে এসে যদি দেখা যায় ৭০ হাজার টাকা প্রয়োজন, তখন ক্রেতারা দুশ্চিন্তায় পড়ে যাচ্ছেন। এতে আমাদের বিক্রিও কমে গেছে।’

আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব

কম্পিউটার যন্ত্রাংশের দাম বাড়ার কারণ সম্পর্কে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক স্বপ্নীল রহমান বলেন, ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের কারণে আমদানি করা কম্পিউটার যন্ত্রাংশের ব্যয় বেড়েছে। ফলে এসব পণ্য আমদানিতে আগের তুলনায় বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক জটিলতার কারণে পণ্য পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার দ্রুত বাড়ায় এআই সার্ভার ও উচ্চক্ষমতার কম্পিউটিংয়ের জন্য সেমিকন্ডাক্টর চিপের চাহিদা বেড়েছে। এতে বিশ্ববাজারে চিপ ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশের সরবরাহের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব, মুদ্রার অবমূল্যায়ন ও সরবরাহ সংকটের কারণে কম্পিউটার যন্ত্রাংশের দাম বেড়েছে। এতে সীমিত বাজেটের শিক্ষার্থী ও সাধারণ ক্রেতাদের কম্পিউটার কেনা বা আপগ্রেড করার পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।